বিমানবন্দরে গিয়ে জানলেন ভিসা-টিকিট জাল, টাকা ফেরত চান ভুক্তভোগী

বাংলা টিভি ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর নামে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ইকবাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভুয়া ভিসা ও বিমানে টিকিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জাল কাগজপত্র নিয়ে বিমানবন্দরে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ার পর টাকা ফেরত চাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর সোনারগাঁ থানায় ভুক্তভোগীর ছেলে রিফাত হোসেন (২৭) বাদী হয়ে ৪ জন নামীয় ও আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে সূত্র জানা যায়, প্রতিবেশী ১ নম্বর বিবাদী মো. কবির হোসেন (৪৫) ও তার সহযোগী বিবাদী সুমি আক্তার (৩৭), জুলেখা আক্তার (৭১) এবং মো. জাহাঙ্গীর (৪০) মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ২০২৩ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ১৯ মে তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কবির হোসেন ভুক্তভোগীকে ভিসা, বিমানের টিকিট ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র প্রদান করেন।
তবে ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন বিমানবন্দরে গমন করলে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সেগুলো জাল বা ভুয়া বলে শনাক্ত করেন এবং তাকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেন।
অভিযোগে আরও জানানো হয়, ভুয়া ভিসার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর টাকা ফেরত চাইলে প্রতারক চক্রটি নানা টালবাহানা শুরু করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সালিশ- বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে বিবাদী কবির হোসেন টাকা দিতে না পারলে জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং পাসপোর্ট ও জাল টিকিট ফেরত নিয়ে বাড়িতে যেতে বলেন। তবে গত ১ ফেব্রুয়ারি বাদীর বাড়িতে গেলে বিবাদী কবির হোসেন উল্টো তাদের তাড়িয়ে দেন এবং হুমকি দেন। সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর অন্য বিবাদীদের কাছে বিচার চাইলে তারাও টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। বর্তমানে প্রধান বিবাদী মো. কবির হোসেন আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর ছেলে রিফাত জানায়, অভিযুক্তরা একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্রের সদস্য এবং এলাকায় আরও একাধিক ব্যক্তির সাথে একই ধরনের প্রতারণা করেছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে থানায় অভিযোগ দাখিল করতে কিছুটা দেরি হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।



