গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া সেই আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী

বাংলা টিভি ডেস্ক: তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, ঋণের চাপ আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন ২৪ বছর বয়সী মোসা. আঁখি। তৃতীয়বারের মতো মা হতে যাওয়া এই নারীর কাছে যেখানে অনাগত সন্তানকে ঘিরে আনন্দ থাকার কথা, সেখানে পরিবারের অভাব-অনটন তাকে ঠেলে দিয়েছিল এক কঠিন বাস্তবতার মুখে। পরিস্থিতির চাপে গর্ভের সন্তানকে অন্য একটি সচ্ছল পরিবারের কাছে তুলে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন তিনি।
সংসারের দুরবস্থার কথা জানাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্ল্যাকার্ড হাতে মানুষের সহায়তা চাইতেন আঁখি। সেখানে তিনি অনাগত সন্তানকে একটি ভালো পরিবারের কাছে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে সাহায্যের আবেদন জানান। তার এই অসহায়ত্বের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, আঁখির পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আর্থিক অবস্থা ও দুর্ভোগের বিষয়টি জানা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আঁখির স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। ফলে স্বামীর চিকিৎসা, সংসারের খরচ এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে পরিবারটির ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিই আঁখিকে অনাগত সন্তানকে নিয়ে এমন দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলেছিল।
পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানার পর তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, গত রোববার আঁখি ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে তাদের হাতে এক লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আঁখির সন্তান প্রসবের যাবতীয় ব্যয় বহন এবং পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
আঁখির পরিবারের জন্য এই উদ্যোগ আর্থিক সংকটের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দেওয়ার পাশাপাশি অনাগত সন্তানকে ঘিরে তাদের অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হতে পারে।



