বাংলাদেশ

পাবনায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আরও এক যাত্রী

বাংলা টিভি ডেস্ক: পাবনায় চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরে গুরুতর আহত হয়েছেন সান্টু মিয়া (৩২) নামে এক যাত্রী। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথায় অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনটি পাবনা রেলস্টেশনের কাছাকাছি গাছপাড়া এলাকায় পৌঁছালে এ ঘটনা ঘটে। জানালা দিয়ে ছুটে আসা পাথর সরাসরি সান্টু মিয়ার মাথায় আঘাত করে। এতে ট্রেনের ভেতরেই তার খিঁচুনি শুরু হয়।

আহত সান্টু মিয়া পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল টেকনোলজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি সাঁথিয়া উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আনসার আলী প্রামানিকের ছেলে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় ট্রেনের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

বারবার ঘটছে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা

২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঢালারচর-রাজশাহী রুটে ‘ঢালারচর এক্সপ্রেস’ চালু হয়। তবে চালুর পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বেড়া ও সাঁথিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনায় ১০ জনের বেশি যাত্রী আহত হন। একই ঘটনায় ট্রেনের ১৮টি জানালার কাচ ভেঙে যায়। পরে প্রশাসন ও স্থানীয়দের উদ্যোগে এ ধরনের ঘটনা কিছুটা কমলেও সম্প্রতি আবারও তা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক মাসে ২০টিরও বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর দুবলিয়া ও তাঁতিবন্ধ স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় সন্ধ্যায় ঢালারচর এক্সপ্রেসের পাঁচটি বগি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। এতে শিক্ষার্থী মাসুদ রানাসহ অন্তত সাত থেকে আটজন আহত হন।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর সুজানগর, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলা এলাকার মধ্য দিয়ে চলাচলের সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। ট্রেনের জানালার পাশে বসে যাত্রা করাও অনেকের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কঠোর আইন থাকলেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উদ্বেগ

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ গুরুতর অপরাধ। রেলওয়ে আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে অপরাধীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ কতটা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা কিশোর হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান জানান, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এসব ঘটনা নিয়ে কাজ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চারটি এবং ২০২৬ সালে এ ধরনের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে, পাকশীর পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পাথর নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের (ডিআরএম) বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের পুনরাবৃত্তি শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তাই বিঘ্নিত করছে না, প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button