নরসিংদীতে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ এক শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীর মাধবদীতে একটি প্রিন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢামেক বার্ন ইউনিটে ভর্তি দগ্ধ ৫ জনের মধ্যে জামাল হোসেনের (৪২) মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
নিহত জামাল হোসেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বাড়ৈপাড়া গ্রামের মৃত সুক্কুর আলীর ছেলে। তিনি উচিৎপুরা ইউনিয়নের কৃষকদলের সেক্রেটারি এবং মাধবদীর ওই ডাইং কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
এর আগে, গতকাল সন্ধ্যায় বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৫ শ্রমিককে ঢামেক বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। দগ্ধ অন্যরা হলেন— টিপু (৪৫) ৯০ শতাংশ, ফয়সাল (২৫) ২৫ শতাংশ, রুবেল (৩৫) ৮ শতাংশ ও শাজাহান (৩০) ৪ শতাংশ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে মাধবদীর কালীবাড়ি এলাকায় অবস্থিত রনি ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলের বয়লার হুট করে বিকল হয়ে যায়। পরে তা মেরামতের চেষ্টা চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে বয়লার বিস্ফোরিত হয়। এতে জামাল হোসেনসহ অন্তত ১৪ জন শ্রমিক আহত হন। জরুরিভাবে তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী থেকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় কয়েকজনকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ৫ জনকে ঢাকা মেডিকেলে নিলে বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামাল হোসেনের মৃত্যু হয়।
এদিকে, তার মৃত্যুতে নিহতের পরিবার ও বাড়ৈপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও স্থানীয়রা এই দুর্ঘটনার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করে সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় ঢামেক বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হারুনুর রশিদ জানান, দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় জামাল ও টিপুকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে জামাল মারা যান। বাকিরা জরুরি বিভাগের অবজারভেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।



