বাবার বিরুদ্ধে মাকে মারধর ও বহুবিবাহের অভিযোগ তাশরীফের

বাংলা টিভি ডেস্ক: অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ না দেওয়া এবং তাঁর খোঁজখবর না রাখার অভিযোগ ওঠার পর নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন ইসলামী বক্তা হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। বাবার অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে পারিবারিক বিরোধের নানা বিষয় সামনে এনেছেন তিনি। একই সঙ্গে তাশরীফের মা-ও তাঁর ছেলের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ফেসবুক লাইভে এসে তাশরীফ বলেন, বাবা-মায়ের সেবা করা প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব। তবে ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে বড় হয়েছেন বলে দাবি করেন।
নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাশরীফ অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা প্রায়ই তাঁর মায়ের ওপর নির্যাতন করতেন। সামান্য বিষয় নিয়েও মাকে মারধর করা হতো বলে দাবি করেন তিনি। বাবার একাধিক বিয়ের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মায়ের ওপর নির্যাতন বাড়ত বলেও অভিযোগ করেন এই বক্তা।
তাশরীফের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ছোট বোনের জন্মের পর তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে নানা বেঁচে না থাকায় মা ও সন্তানদের অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে। চার বছর বয়সে তাঁকে এতিমখানায় ভর্তি করা হয় বলেও জানান তিনি।
শৈশবের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে তাশরীফ বলেন, পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তাঁকে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে কাজ করতে হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকাও বাবা দিতেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে পাওয়া অর্থও তাঁর কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হতো বলে দাবি করেন তাশরীফ।
বাবার ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগের জবাবে তাশরীফ দাবি করেন, তিনি নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাবাকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিলেও তিনি তা গ্রহণ করতে চান না; বরং আরও বেশি অর্থ ও গাড়ি প্রত্যাশা করেন।
কোরবানির মাংস না দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তাশরীফ। তিনি বলেন, বাবার জন্য কোরবানির মাংস পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। বাবার জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবস্থাও করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
চিকিৎসার জন্য অর্থ চাওয়ার প্রসঙ্গে তাশরীফ বলেন, তিনি বাবাকে কিছুটা সময় দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি, সেই সময়ের অপেক্ষা না করে বাবা মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ছাড়া নিজের বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে বাবার আচরণ নিয়েও অভিযোগ তোলেন তাশরীফ। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার পরও তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তাশরীফের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাঁর মা-ও ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি দাবি করেন, তাশরীফ তাঁর বাবাকে প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতেন। তবে সাম্প্রতিক পারিবারিক বিরোধের কারণে গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সেই অর্থ দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
তাশরীফের মা আরও অভিযোগ করেন, অন্যদের কথায় প্রভাবিত হয়ে তাঁর বাবা ছেলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অন্যদের মন্তব্য থেকে বাবার মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বক্তব্যে তাশরীফের বাবার একাধিক বিয়ের প্রসঙ্গও তোলেন তাঁর মা। তিনি দাবি করেন, নিজের সংসারে থাকাকালীন তাঁর স্বামী সাতটি বিয়ে করেছিলেন। পরে তিনি মোট ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ের কথা জানতে পেরেছেন বলেও অভিযোগ করেন।
অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ ও খোঁজখবর না রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাশরীফের বাবা, ছেলে ও মায়ের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী দাবি উঠে এসেছে। একদিকে বাবা আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন, অন্যদিকে তাশরীফ ও তাঁর মা দাবি করেছেন, বাবাকে অর্থসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে পারিবারিক বিরোধের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তথ্য-প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ।



