বাংলাদেশ

সংসার সামলে ১৫ বছর পর এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন জয়পুরহাটের রীতি খাতুন

বাংলা টিভি ডেস্ক: সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলেও যে স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব, তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার গৃহবধূ রীতি খাতুন (৩০)। বিয়ের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পড়াশোনার বাইরে থাকার পর স্বামীর উৎসাহে আবারও শিক্ষাজীবন শুরু করেন তিনি। এবার ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন এই গৃহবধূ।

রীতি খাতুন উপজেলার নসিরপুর গ্রামের আব্দুল আলিম মণ্ডল বাবুর স্ত্রী। তিনি ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখা থেকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ সাফল্য অর্জন করেন।

জানা যায়, ২০১০ সালে মোলামগাড়িহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন রীতি। এর পরের বছরই বিয়ে হওয়ায় সংসারজীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। বর্তমানে তাঁর ১১ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে। সংসারের ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছিলেন তিনি। অবশেষে ২০২৪ সালে স্বামীর অনুপ্রেরণায় এসএসসি পাসের প্রায় ১৪ বছর পর আবারও কলেজে ভর্তি হন।

তবে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার পথটি সহজ ছিল না। সংসারের দৈনন্দিন কাজ সামলানোর পাশাপাশি পড়াশোনার জন্য সময় বের করতে হয়েছে তাঁকে। এ নিয়ে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে উপহাসও শুনতে হয়েছে। কিন্তু সেসব বাধা উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন রীতি। পড়াশোনার এ যাত্রায় স্বামীর পাশাপাশি শিক্ষকদের সহযোগিতাও পেয়েছেন তিনি।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে রীতি খাতুন বলেন, স্বামীর সহযোগিতা ও উৎসাহ না পেলে এই বয়সে এসে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না। সংসারের কাজের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা করতে হয়েছে। তাঁর ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

স্ত্রীর এমন সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে আব্দুল আলিম মণ্ডল বাবু বলেন, স্ত্রীর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে তাঁকে কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন। তাঁর এই অর্জনে পরিবারের সবাই আনন্দিত।

ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সায়ফুল ইসলাম বলেন, সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রীতির এমন ফলাফল সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরু করে রীতির এই অর্জন প্রমাণ করেছে, শেখার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ইচ্ছাশক্তি ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায় থেকেই নতুন করে স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button