রাজনীতি

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের

বাংলা টিভি ডেস্ক: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে বিকল্প পথ বের করা প্রয়োজন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, সরকারের ‘অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার’ কারণে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে বারবার এর খেসারত দিতে হচ্ছে। তার অভিযোগ, সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার বদলে সরকার জনগণের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।

নাহিদ ইসলামের দাবি, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েক মাসের মধ্যেই তৃতীয়বারের মতো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানির মূল্য বাড়ানোর পেছনে সরকার মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন কারণ দেখাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে—এমন যুক্তি দেখিয়ে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছে সরকার।

তবে আমদানি করা জ্বালানি তেলের ওপর সরকার বিভিন্ন কর ও শুল্ক বাবদ ৩২ শতাংশ পর্যন্ত আদায় করছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সংকটের সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে এসব কর ও শুল্ক সাময়িকভাবে কমানোর কথা বিবেচনা করা হলো না কেন।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও দাবি করেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের অর্থনীতিতে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নকে কেন এতটা অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পে স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা যায় কি না, সেই বিষয়েও প্রশ্ন করেন নাহিদ ইসলাম।

তার বক্তব্য, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব দেখিয়ে যদি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো হয়, তাহলে রাষ্ট্রের অন্যান্য খাতের ব্যয়ও পুনর্বিন্যাস করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

শেষে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নাহিদ ইসলাম অবিলম্বে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button