রাজনীতিবিএনপি

কুমিল্লায় বিএনপি অফিসে যুবদলের হামলা-ভাঙচুর

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার লালমাই উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার বিকেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত বিএনপি নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল থেকে লালমাই উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কার্যালয়ে থাকা চেয়ার, টেবিল, ব্যানার-পোস্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা।

দলীয় সূত্র বলছে, ওই কার্যালয়টি বাগমারা দক্ষিণ বাজার এলাকায় অবস্থিত। এই কার্যালয়টি কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘাত চলে আসছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত বিএনপি নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই বাজার এলাকার একটি খাবার হোটেলে হেলমেট পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এ সময় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত উপজেলা বিএনপি নেতা আনোয়ার উল্যাহ, আক্তারুজ্জামান রকেট, হাফেজ বিল্লাল হোসেন, মাহবুব আলম, আসলাম মজুমদার ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী কুমিল্লা-বাঙ্গড্ডা সড়কের বাগমারা বাইপাস এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাগমারা দক্ষিণ বাজার এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কে পৌঁছালে টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় মিছিলকারীদের মধ্য থেকে যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা কার্যালয়ের দেয়ালে সাঁটানো বিএনপির কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ছবিসংবলিত পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। কার্যালয়ের একটি বড় টেবিলসহ সব চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।

লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টু জানান, দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিনি জানতে পেরেছেন, সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম, ইকবাল হোসেন মজুমদার, যুবদল নেতা মানিক হোসেন ও সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে কিছু লোক বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে।

পিন্টু বলেন, ভাঙচুর থেকে বাদ যায়নি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিও। হামলাকারীরা বিএনপি অফিসের চেয়ারসহ কিছু ব্যানার-পোস্টার নিয়ে গেছে। অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটারসহ ১৬টি বৈদ্যুতিক পাখা নষ্ট করে দিয়েছে। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বিএনপি কার্যালয়ের শাটারের তালা ভেঙে হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে কিছু চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছে। পুলিশ গিয়ে হামলাকারীদের নিবৃত করেছে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কোনো কমিটি নাই, যেসব কমিটি আছে তা আমি মানি না। এগুলো অবৈধ কমিটি। তাই কে বা কার অফিস ভেঙেছে তা আমি অবগত নই। জানার চেষ্টা করছি।’

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button