
বাংলা টিভি ডেস্ক: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় টিকটকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম অতঃপর বিয়ের পর স্ত্রীকে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে গ্রামপুলিশকে খবর দেন। গ্রামপুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেখানে নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেন নববধূ।
এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য, গ্রামপুলিশ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কুরানিয়ার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত প্রান্ত শেখ (২২) ওই এলাকার মুজিবর শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিকটকের মাধ্যমে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্পিগঞ্জ ইউনিয়নের রশিদ শেখের মেয়ে রোকিয়া বেগমের সঙ্গে গাজীপুরে পরিচয় হয় প্রান্ত শেখের। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় দেড় মাস আগে তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রোকিয়া বেগম জানান, শুক্রবার রাতে স্বামী প্রান্ত তাকে গাজীপুর থেকে নিজ বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে ফরিদপুরের মধুখালীতে নিয়ে আসেন। রাত ২টার দিকে মধুখালী রেলগেট এলাকায় বাস থেকে নামার পর প্রান্ত তাকে কুরানিয়ার চর গ্রামের একটি পাটখেতে নিয়ে যান। সেখানে রাতভর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
রোকিয়ার অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। এমনকি তার চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মধুখালী থানার এসআই তন্ময় কুমার বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করি। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।



