দেশবাংলা

‘গরু নয় যেন জলহস্তি’, ৩৬ মণের ‘বস’কে দেখতে রাজবাড়ীতে ভিড়

বাংলা টিভি ডেস্ক: রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামে দেখা মিলেছে বিশাল আকৃতির একটি গরুর, যা স্থানীয়দের কাছে ‘রাজবাড়ীর বস’ নামে পরিচিত। আকার-আকৃতি ও গঠনশৈলীর কারণে গরুটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক মোহাম্মদ আলীর বাড়ির উঠানসংলগ্ন একটি ঘরে গরুটিকে রাখা হয়েছে। সাদা-কালো রঙের এই গরুটিকে প্রতিদিনই দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। অনেকে একে “জলহস্তির মতো বিশাল” বলেও মন্তব্য করছেন।

গরুর মালিক মোহাম্মদ আলী জানান, এটি তার নিজের গাভির বাছুর, যাকে তিনি প্রায় তিন বছর ধরে সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন। তার ভাষায়, গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘রাকচি রাজবাড়ীর বস’। তার দাবি অনুযায়ী, গরুটির ওজন প্রায় ৩৬ মণ, উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ ফুট।

তিনি আরও বলেন, গরুটি ফিজিয়ান জাতের এবং কোনো ধরনের ইনজেকশন ছাড়াই প্রাকৃতিক খাবার—ধানের কুঁড়া, খৈল, ভুসি, ঘাস ও খড়—খাইয়ে বড় করা হয়েছে। তবে ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার খাবার লাগছে বলেও জানান তিনি। তাই উপযুক্ত দাম পেলে গরুটি বিক্রি করার ইচ্ছার কথাও জানান এই কৃষক।

মোহাম্মদ আলীর ছেলে করিম শেখ বলেন, তিন বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের মতো যত্নে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। বর্তমানে অনেকেই দেখতে আসছেন এবং ক্রেতারাও যোগাযোগ করছেন। তারা প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো দাম প্রত্যাশা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারাও গরুটিকে দেখতে ভিড় করছেন। তাদের ভাষায়, এ ধরনের বিশাল গরু এই এলাকায় আগে দেখা যায়নি। কেউ কেউ নিয়মিত এসে গরুটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘রাজবাড়ীর বস’ বর্তমানে জেলার অন্যতম বড় গরু। প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত এর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছে এবং খামারিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বড় আকারের গরু পালন অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে, কারণ এসব গরুর বাজারজাতকরণ কঠিন এবং গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকিও থাকে। তাই খামারিদের এ ধরনের গরু পালনে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button