
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক বলেছেন, “আমি যতটা আন্দোলন করেছি, ইবাদত হিসেবেই করেছি। আল্লাহর রাসূল (সা.) যেমন ওহুদের যুদ্ধে নিজে লড়েছেন, আমিও একজন যোদ্ধা হিসেবে তাঁর অনুসরণ করেছি।”
১৮ অক্টোবর (শনিবার) সিলেটের কামাল বাজার ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
এম এ মালিক দাবি করেন, ইতালিতে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে আওয়ামী লীগ তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার হুমকি দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, যারা আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে, তাঁর ইবাদত করে, আল্লাহ তাদের জন্য যথেষ্ট।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, লন্ডনে তাঁর বাড়িতে দুইবার ‘রাশিয়ান হিটম্যান’ হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। এমনকি প্রথমবার বাংলাদেশে এসে সিলেটের বাড়িতে অবস্থানকালে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র”-এর প্রশিক্ষিত একজন কিলার তাঁকে হত্যা করতে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। পরে পুলিশ, ডিআইজি ও এসপি রাত ৩টার দিকে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে বলে তিনি জানান।
এ সময় মালিক বলেন, “এখনও ১৫০০ মানুষ গুম হয়ে আছে। বিগত সরকার ২২.৭ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে। তারা জানে কী পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে নিয়ে গেছে, তাই এখন আর দেশে ফিরে আসে না।”
তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন আলজাজিরা, বিবিসি ও নিউ টাইমস শেখ হাসিনার সরকারকে “মাফিয়া” আখ্যা দিয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ১৪ বিলিয়ন ডলার চুরির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন। একইসঙ্গে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ১৬ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
এম এ মালিক আরও বলেন, “লন্ডনে অনেক প্রবাসীর ঘরবাড়ি সরকার দখল করে রেখেছে। তারা এখনো কষ্টে আছে।” তিনি প্রবাসীদের “রেমিটেন্স যোদ্ধা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা ১১ দিন ধরে শেখ হাসিনাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলাম। তখন হাসিনা বারবার বলেছিলেন – তারেককে বলো হোটেল পাচ্ছি না।”
এসময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে শেখ হাসিনার সফরের সময়, জাতিসংঘের সামনে লক্ষাধিক প্রবাসী বিক্ষোভে অংশ নেয়। ওই সময় শেখ হাসিনা তাঁকে চায়ের দাওয়াত দিলেও, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। মালিক জানান, তাঁর একমাত্র শর্ত ছিল – বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু তা না করায় তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি।



