ছয় মাসের লুটপাটে বিএনপি সরকার চোরাবালিতে পড়েছে: সারজিস

বাংলা টিভি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপি সরকার চোরাবালিতে আটকে গেছে। এখন যত বেশি নড়াচড়া করছে, ততই তারা আরও গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, শনিবার বিকেলে তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে নতুন করে একটি দল ও কিছু মানুষ অরাজকতা সৃষ্টি করছে এবং তাদের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো অরাজকতা শুরু করিনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দখলদারির মাধ্যমে আপনারাই গত ছয় মাসে লুটপাট শুরু করেছেন। অরাজকতা আপনারাই শুরু করেছেন।’
গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে সারজিস বলেন, যারা বিভিন্ন সময়ে ভয় দেখিয়ে ও আইনের অপব্যবহার করে বিরোধীদের দমন করার চেষ্টা করেছে, তাদের পরিণতি থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। নিজেদের ব্যর্থতা ও অরাজকতা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে বিরোধীদের ওপর দায় চাপানোর রাজনীতি এখন আর বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বিরোধী দলে থাকার সময় বিএনপি ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’র ডাক দিয়েছিল। কিন্তু তারা একটি বালুর ট্রাকও সরাতে পারেনি। তার ভাষায়, যে দল আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে এবং সরকার ও বিরোধী দল—দুই অবস্থানেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তাদের কাছ থেকে নসিহত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সারজিস আলম আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপির সরকার এমন চোরাবালিতে পড়ে গেছে, এখন যতই নড়াচড়া করছে, ততই ভেতরের দিকে তলিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বিএনপিকে নিজেদের পাশাপাশি ছাত্রদল ও যুবদলকেও নিয়ন্ত্রণে আনার পরামর্শ দেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এমন এক যুগে বাংলাদেশ এসেছে, যেখানে মহিষকে ঘাস খাওয়ানোর জন্যও চাঁদা দিতে হয়। এর চেয়ে নির্লজ্জতার আর কিছু হতে পারে না।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের শেষ কর্মসূচি হিসেবে লালদিঘি ময়দানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনপূর্ব সংস্কার ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংকীর্ণ দলীয়করণের বিরুদ্ধেও অবস্থান জানানো হয়।



