আ.লীগের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আস্ফালন মেনে নেওয়া যায় না: রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল

বাংলা টিভি ডেস্ক: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেশে ও বিদেশে উগ্র এবং সংঘবদ্ধ তৎপরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। একই সঙ্গে ইতালিতে অভিনেত্রী ও সংস্কৃতিকর্মী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন মুশফিকুল ফজল আনসারী।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের বিজয় এসেছে জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে। বিএনপিসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ছাত্রসমাজ, কৃষক-শ্রমিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাজারো ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যার সঙ্গে জড়িত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঔদ্ধত্যপূর্ণ তৎপরতা দেশে কিংবা দেশের বাইরে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর যারা জঙ্গি কায়দায় হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
মুশফিকুল ফজল আনসারী আশা প্রকাশ করেন, ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতালির সহযোগিতা চাইবে।
বিদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিক যাতে নিরাপদ ও সুরক্ষিত বোধ করেন, তা নিশ্চিত করা দূতাবাসগুলোর দায়িত্বের অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ইতালির প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে সফররত কোনো ইতালীয় নাগরিক একই ধরনের হামলার শিকার হলে দেশটির মিশনের তৎপরতা এবং বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে তাদের তাৎক্ষণিক যোগাযোগ সহজেই দৃশ্যমান হতো। একইভাবে বিশ্বের যেকোনো সভ্য দেশে এ ধরনের সহিংস ও ঘৃণ্য ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
উল্লেখ্য, রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন আজমেরী হক বাঁধন। ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উপলক্ষে বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে বাঁধন হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বলে জানা গেছে।



