
বাংলা টিভি ডেস্ক: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ৭১-এ যারা রাজাকার ছিল, ৯০-এ যারা স্বৈরাচার ছিল এবং ২৪-এ যারা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি-মুনাফেকি করেছে, তারা প্রয়োজনে এক হতে পারে। কিন্তু সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একটি জাতীয়তাবাদী শক্তি যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে ওই গুপ্ত-সুপ্তরা ঐক্য হয়ে আমাদের কোনো কিছু করতে পারবে না।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ে জেলা বিএনপির আয়োজনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশের ইতিহাসে যদি দেখা যায়, সেই ইতিহাস ঐ স্বাধীনতাযুদ্ধ, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন-জুলাই অভ্যুত্থান। প্রত্যেকটা আন্দোলনে কিন্তু জিয়া পরিবার, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের অবদান অনস্বীকার্য এবং সেটা পরীক্ষিত।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এখানে অনেকে আছেন, আপনারা ম্যাক্সিমাম নেতাকর্মী আছেন, মামলা খেয়েছেন, জেলে গেছেন। এখন যদিও অনেক জায়গায় হাইব্রিডরা চলে আসার চেষ্টা করছে, কিন্তু আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেসেজ ক্লিয়ার, আমরা তাদেরকে প্রিভিলেজ দিয়ে, তাদেরকে সামনে রেখে আমরা দলের কাজ করব।
তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে যখন তারেক রহমানের যে কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে তার কার্যক্রম যখন আজকে তৃণমূলের মানুষের আস্থা-বিশ্বাস পাচ্ছে, আজকে যখন বাংলাদেশে একটি মানবিক বাংলাদেশ, আজকে যখন বাংলাদেশে একটি সার্বজনীন বাংলাদেশ, আজকে যখন বাংলাদেশ মানবাধিকারের দিক দিয়ে বিশ্বের ইতিহাসে সুনাম ছড়াচ্ছে, সেই সময় ঐ অপশক্তিরা যারা কোনোদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে নাই, আজকে তারা অনেক ধরনের অপকর্মের সম্পৃক্ত হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বলেন, কৃষক কার্ড বলেন, আমাদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং পুরোহিতদের ভাতা বলেন এবং আমাদের বিশেষ করে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আমাদের কর্মী নিয়োগ বলেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই কিন্তু আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাইলট প্রকল্পে শুরু করেছেন এবং সামনের মাস থেকে প্রতিটা ইউনিয়নে ইউনিয়নে এই কার্যক্রমগুলো শুরু হবে।
শেষে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আসুন ঐক্যবদ্ধ হই। যেখানেই সন্ত্রাস, যেখানেই অগ্নিসংযোগ, যেখানেই ককটেল, যেখানেই বোমা, যেখানেই ঐ ফ্যাসিস্ট, সেইখানেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের প্রতিহত করতেই হবে।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



