আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ শিক্ষার্থী, ১ শিক্ষক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী ও একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে শহরের দির কলোনি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার সময় স্কুলে নিয়মিত পাঠদান চলছিল। হঠাৎ ছাদ ধসে পড়লে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহত ও নিহতদের পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৮ জন ছেলে ও ১০ জন মেয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশের বয়স ১৩ বছরের নিচে।

পেশোয়ারের জেলা প্রশাসক আফাক ওয়াজির জানান, ভবনটির ছাদ ধসে পড়ার পর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। পরে উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেন।

এদিকে, পেশোয়ারের ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ কর্মকর্তা মিয়াঁ সাঈদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় স্কুল ভবনের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনাটি তদন্তে খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক শিক্ষা সচিব ইনায়েতউল্লাহ ওয়াসিম বেসরকারি স্কুল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আগামীকালের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

প্রদেশটির গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দিও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়ার পাশাপাশি আহত শিশুদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

পাকিস্তানে ভবন ও ছাদ ধসে প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে দেশটিতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত জুলাইয়ে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের অংশবিশেষ ধসে তিন শিশু নিহত হয়। একই মাসে লাহোরের বাগবানপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে এক শিশু মারা যায় এবং আহত হয় অন্তত পাঁচজন।

এর আগে জুনে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়। আর তারও দুই মাসের কম সময় আগে ডেরা গাজি খানের একটি বেসরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছিল।

সূত্র: জিও নিউজ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button