নামাজ পড়াতে প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি পাড়ি দেন ইমাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় ভান শহরে অবস্থিত একটি পাহাড়চূড়ার মসজিদে নামাজ পড়াতে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন ইমাম সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ। কষ্টসাধ্য এই যাত্রাকে বোঝা মনে করেন না তিনি; বরং মহান আল্লাহর সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখেন নিজের দায়িত্বকে।
সম্প্রতি তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাঁর এই ব্যতিক্রমী জীবনযাত্রার কথা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত পাঁচ মাস ধরে ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত সুলেইমান খান মসজিদে ভারপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিলমেজ। প্রতিদিন দুপুরের নামাজের আগে মসজিদে পৌঁছান তিনি। এরপর দিনভর দায়িত্ব পালন শেষে এশার নামাজের পর পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসেন।
নিয়মিত নামাজের ইমামতি করার পাশাপাশি মসজিদে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে সময় কাটান বিলমেজ। তাঁদের কাছে মসজিদটির ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানান। দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ইসলামের নানা বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। এভাবে পর্যটকদের সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথনের ফলে তাঁর ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতাও বেড়েছে।
ঐতিহাসিক মসজিদে ইমামের দায়িত্ব
ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত সুলেইমান খান মসজিদটির নির্মাণের সুনির্দিষ্ট সময়কাল জানা যায়নি। তবে ১৫৩৪ সালে উসমানীয় সুলতান সুলেইমান দ্য ম্যাগনিফিসিয়েন্ট মসজিদটি সংস্কার করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। সংস্কারকাজ শেষে তিন বছর আগে মসজিদটি আবারও নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
ঐতিহাসিক এই মসজিদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় বিলমেজকে। পাহাড়ের চূড়ায় ওঠানামার এই কঠিন রুটিন তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইমাম বিলমেজ বলেন, ‘ক্লান্তিকর হলেও মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করছি, নিজের ইচ্ছায় এ দায়িত্ব পালন করছি বলে আমি আনন্দিত।’
তাঁর কাছে প্রতিদিনের এই পরিশ্রম কেবল দায়িত্ব পালনের অংশ নয়; বরং ধর্মীয় সেবার মধ্য দিয়ে মানসিক তৃপ্তি অর্জনেরও একটি সুযোগ। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিজের দায়িত্বের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।



