রাজনীতি

‘সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় মদদে সাজানো ছিল’

বাংলা টিভি ডেস্ক: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদের বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত, যিনি হাসনাত আব্দুল্লাহ নামে পরিচিত।

তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর টানা তিন বছর ধরে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে, অতীতে সাম্প্রদায়িক নাশকতার কিছু ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হতো।

বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল যে, তাদের শাসন ছাড়া বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপদ থাকবে না এবং দেশ উগ্রবাদের দিকে এগিয়ে যাবে। তাঁর অভিযোগ, এই রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে জঙ্গিবাদ নিয়ে নাটক সাজানো এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপানোর মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো।

তিনি আরও দাবি করেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা এবং সংখ্যালঘুদের একমাত্র রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করা হয়েছিল।

হাসনাত আব্দুল্লাহর ভাষ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ ধরনের পরিকল্পিত নাশকতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকলেও গত তিন বছর ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতিফলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

দেশের অপরাধ ও অস্থিরতাকে কেবল ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জমি দখলের মতো অপরাধের পেছনে মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ কাজ করে। এসব অপরাধের শিকার হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সাধারণ ও ক্ষমতাহীন মানুষ।

এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বিগত সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধের কিছু ঘটনাকে বেছে নিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বয়ান তৈরি করেছিল। তাঁর মতে, কখনো এসব ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, আবার কখনো কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরির মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, প্রতিটি অপরাধের সুষ্ঠু বিচার এবং সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সমাজে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কমিয়ে আনা সম্ভব।

বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button