‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা আর ছোট ভাইয়ের কী হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের মহারাষ্ট্রে একটি গিরিখাতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন গুজরাটের ভাবনগরের বাসিন্দা বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল (৩৮)। মৃত্যুর আগে ধারণ করা ১৩ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় পারিবারিক নির্যাতনবিরোধী আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে আইন পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বরাজসিংহ ডাক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিয়ে হয়। তবে বিয়ের আট মাসের মাথায় দাম্পত্য জীবনে সংকট দেখা দেয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর স্ত্রী যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ৯ অক্টোবর আদালতেও হাজির হয়েছিলেন তিনি।
মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে বিশ্বরাজসিংহ নিজের বৈবাহিক সম্পর্ক ও চলমান আইনি লড়াই নিয়ে হতাশার কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সাধারণ দাম্পত্য বিরোধকে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে রূপ দিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিয়েকে পবিত্র বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করা হলেও মতের অমিল ও পারস্পরিক দ্বন্দ্ব অনেক সময় সম্পর্ক ভেঙে দেয়। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আইনি বিরোধ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবন গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে।
নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্বরাজসিংহ দাবি করেন, তাঁর মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারধরের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মামলা দায়েরের সময় পুলিশ যথাযথ প্রমাণ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি যাচাই করেনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্বরাজসিংহ আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় তিনি মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক চাপের মধ্যে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁর স্ত্রীকে নিজেদের বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এ সময় স্ত্রী যেতে চাননি বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, তাঁদের কাছে স্ত্রীর স্বর্ণালংকার রয়েছে—শ্বশুরবাড়ির পক্ষের এমন দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
ভিডিওতে নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশ্বরাজসিংহ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তাঁর মা ও ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাইও সমস্যার মুখে পড়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগেরও প্রতিবাদ জানান তিনি।
ভারতের দণ্ডবিধির সাবেক ৪৯৮এ ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশ্বরাজসিংহ এর পরিবর্তনের দাবি জানান। উল্লেখ্য, এই ধারা মূলত স্বামী বা তাঁর আত্মীয়দের দ্বারা স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অপরাধসংক্রান্ত। যৌতুকসংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে ভারতের অন্য আইন ও বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে।
ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধ, আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে মৃত্যুর আগে বিশ্বরাজসিংহের ভিডিওতে করা অভিযোগগুলো তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য; সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও অন্য পক্ষের বক্তব্য যাচাই ছাড়া সেগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
সূত্র: ভাস্কর ইংলিশ



