আন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

চাকরির বেতন ১০ হাজার, ব্যাংকে ঢুকল ১০ হাজার কোটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মাসে মাত্র ১০ হাজার রুপি বেতনে চাকরি করেন। অথচ একদিন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ দেখতে পেলেন ১০ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থ! ভারতের রাজস্থানের ২২ বছর বয়সী এক যুবকের ব্যাংক হিসাবে এমন অস্বাভাবিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে।

ওই যুবকের নাম সমীর খান। তিনি রাজস্থানের সিকার শহরের সালাসার বাসস্ট্যান্ডের কাছে নির্মল মেডিকেল পয়েন্ট নামের একটি ওষুধের দোকানে কাজ করেন।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর)। নিজের প্রিপেইড মোবাইল নম্বরে রিচার্জ করার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স দেখতে অ্যাপ চালু করেন সমীর। পিন নম্বর দেওয়ার পর প্রথমে কোনো টাকা দেখতে না পেলেও পরে অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে বিস্মিত হয়ে যান তিনি। সেখানে দেখা যায়, তাঁর হিসাবে জমা হয়েছে ১০ হাজার কোটি রুপিরও বেশি অর্থ।

তবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দেখে খুশি হওয়ার আগেই নতুন বিপাকে পড়েন সমীর। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই অর্থের ওপর লিয়েন আরোপ করে। ফলে অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ উত্তোলন বা ব্যবহার করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি আগে থেকে জমা থাকা নিজের প্রায় ৫৫ হাজার রুপিও তুলতে পারছিলেন না তিনি।

বিষয়টি জানার পর নিজের নিয়োগকর্তা ধীরজ শর্মাকে জানান সমীর। পরে দুজন মিলে সিকারের সাইবার পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করেন। পুলিশ তাঁদের ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেয়। ব্যাংকে যোগাযোগের পর জানানো হয়, কারিগরি ত্রুটির কারণেই অ্যাকাউন্টে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ত্রুটি সংশোধন করলে সমীরের অ্যাকাউন্টে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। একই সঙ্গে নিজের জমা রাখা অর্থ ব্যবহারের জটিলতাও দূর হয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে সমীর খান বলেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে আগে প্রায় ৫৫ হাজার রুপি জমা ছিল। পরে জানতে পারেন, ১০ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থের ওপর লিয়েন আরোপ করা হয়েছে। এতে নিজের টাকাও তুলতে পারছিলেন না। পরে পুলিশের সহায়তা নিয়ে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান হয়।

সমীরের নিয়োগকর্তা ধীরজ শর্মা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তাঁর দোকানে কাজ করছেন সমীর। মাসে তাঁর বেতন ১০ হাজার রুপি। ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থের ওপর লিয়েন আরোপের খবর শুনে তিনিও বিস্মিত হন। জীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো দেখেননি বলেও জানান তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button