রাজনীতি

ফেসবুক ভিডিওতে সংবাদপত্র ছেঁড়ার ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খাঁন

বাংলা টিভি ডেস্ক: দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার কপি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় নিজের বক্তব্য ও অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, কোনো সংবাদপত্রকে অসম্মান করা নয়, বরং নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত মিথ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এমনটি করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন তিনি।

স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লেখেন, তিনি কোনো পত্রিকা নয়, বরং একটি মিথ্যা বয়ান ছিঁড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে—এমন অসত্য তথ্য প্রকাশ করেছে দৈনিক আমার দেশ। অথচ শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় তাঁকে কারাভোগ করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাশেদ বলেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁর কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে চাইলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা তা করতে পারেন। এমন সমালোচনাকে তিনি স্বাগত জানাবেন। তবে পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তাঁকে ‘নব্য বিএনপি’ আখ্যা দিতে পারেন না কিংবা শেখ হাসিনাপুত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করতে পারেন না।

নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার বৈঠকসংক্রান্ত তথ্য তিনি সামনে এনেছিলেন। এর পাল্টা বয়ান হিসেবে তাঁর সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, একই অভিযোগ যদি জামায়াত বা দলটির নেতা গোলাম পরওয়ার করতেন, তাহলে তিনি রাজনৈতিক ভাষায় তার জবাব দিতেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, জামায়াত দৈনিক আমার দেশকে ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান তৈরির চেষ্টা করেছে। এ কারণে একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হিসেবে তিনি রাজনৈতিকভাবেই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

পত্রিকা ছেঁড়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, তিনি কোনো পত্রিকা ছেঁড়ার মতো ভুল করতে পারেন না। তাঁর দাবি, ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে জামায়াতের পক্ষে বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। কারও চরিত্র হননের হাতিয়ার হিসেবে সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় দৈনিক আমার দেশ-এর সাংবাদিকতার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তাঁর মতে, একটি সংবাদপত্র হিসেবে পরিচিতি পেতে হলে সম্পাদকীয় নীতি ও সাংবাদিকতার প্রচলিত নিয়মকানুন অনুসরণ করা জরুরি। কিন্তু আমার দেশ এসব নীতিমালার কোনোটিই অনুসরণ করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button