Uncategorized

বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

সোহেল রানা, মালদ্বীপ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সম্প্রতি মালে-স্থিত মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নজমুল ইসলাম এবং দেশটির নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইরুথিশাম আদাম।

এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। হাইকমিশনার নতুন পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর সফল মেয়াদ কামনা করেন।

বৈঠকে রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শ্রম ও জনশক্তি, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক), কমনওয়েলথ ও ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ অভিন্ন স্বার্থে একযোগে কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অভিবাসন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো ইস্যুতেও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতি ও চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানের প্রশংসা করেন এবং মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে মালদ্বীপি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগের কথাও তুলে ধরেন।

বৈঠকে মালদ্বীপ ২০২৮–২০৩০ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্যপদের প্রার্থিতায় বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করে। এছাড়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ঔষধসহ বিভিন্ন পণ্যের গুণগত মানেরও প্রশংসা করা হয়।

দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় এবং আগামী বছরে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়।

হাইকমিশনার ড. নজমুল ইসলাম প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বৈধ অভিবাসন ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
এছাড়া সরাসরি শিপিং সংযোগ, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি ও অন্যান্য ঝুলে থাকা সমঝোতা স্মারক দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সংযোগ ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button