Uncategorized

রিল বানাতে ব্যস্ত দম্পতি, সাগরে হাবুডুবু খেল শিশু

বাংলা টিভি ডেস্ক: সমুদ্রসৈকতে রিল তৈরিতে ব্যস্ত এক দম্পতির পাশে ঢেউয়ের ধাক্কায় পড়ে বিপাকে পড়ে একটি শিশু। এ সময় শিশুটিকে পানির মধ্যে ছটফট করতে দেখা গেলেও দম্পতি ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে। পরে পাশেই থাকা এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি ঘিরে অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতে এক নারী ও পুরুষ মোবাইল ফোন বা সেলফি স্টিক ব্যবহার করে নিজেদের ভিডিও ধারণ করছেন। এ সময় নারীকে একটি শিশুর হাত ধরে পানির কাছ দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটি পিছলে বালুর ওপর পড়ে যায়। এরপর সমুদ্রের ঢেউ তাকে এদিক-সেদিক ঠেলে দিতে থাকে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, শিশুটি বিপদে পড়ার সময় নারী একবার পেছনে তাকালেও পরে আবার ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে থাকেন। অন্যদিকে পুরুষটি ভিডিও ধারণ অব্যাহত রাখেন। তবে ভিডিও দেখে দম্পতির অসতর্কতার বিষয়ে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এক্সে মারিয়াম নামের এক ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করেন, স্বামীর সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে তিনি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন। তার অভিযোগ, দম্পতি রিল তৈরিতে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে শিশুটি বিপদে পড়লেও বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি। পরে এক পথচারী দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করেন।

ভিডিওটি শেয়ার করে মারিয়াম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির প্রতি মানুষের অতিরিক্ত মনোযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য, রিল তৈরির ব্যস্ততায় নিজের সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়টিও কি মানুষ ভুলে যাচ্ছেন?

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ব্যবহারকারী শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও ধারণের চেয়ে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, কোনো রিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মুহূর্তই একটি শিশুর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। আরেকজন লেখেন, একটি ভিডিও কয়েক মিনিটের জন্য আকর্ষণ তৈরি করতে পারে, কিন্তু শিশুর জীবনের ঝুঁকি কখনোই তুচ্ছ করে দেখার সুযোগ নেই।

তবে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। তাদের দাবি, এটি ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো হতে পারে। এনডিটিভি জানিয়েছে, ভিডিওটি কোথায় ও কবে ধারণ করা হয়েছে, কিংবা ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দম্পতির পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনাটি শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির সময় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button