ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ঢাকায় বৈঠক

ফিলিস্তিনের গাজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলের বর্বরোচিত অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে কুদস কমিটি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনায়তনে এই বৈঠক অনু্ষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মোস্তফা তারেকুল হাসানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
‘ইসরাইলি দখলদারিত্ব: মুক্তির লড়াই এবং আজকের বাস্তবতা’ শীর্ষক এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আল কুদস কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ কাউছার মুস্তাফা আবুলউলায়ী।
সংগঠনটির সহ-সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক, গবেষক, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, ১৯৪৮ সালে ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে মধ্যপ্রাচ্যে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল সৃষ্টি করা হয়। বিশ্বমানবতার জন্য এটি একটি বিষফোঁড়া। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি নির্দয় আচরণ করে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে এসে তা চরম সীমায় উপনীত হয়েছে। গত বছর অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে তারা চৌত্রিশ হাজারের অধিক নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যা করেছে এবং আরো হাজার হাজার মানুষকে আহত করেছে। বসতভিটা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়ে তাদেরকে উদ্বাস্তুতে পরিণত করেছে। এমনকি তাদের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোতেও বাধা সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় বিশ্বের মানবতাকামী মানুষরা জেগে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সর্বস্তরের জনগণ ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জ্ঞাপন ও ইসরাইলের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। এর বিপরীতে মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশ, বিশেষ করে আবর দেশগুলো নীরবতা অবলম্বন করে যাচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক। কেবল ইয়েমেন, লেবানন, ইরাক, ইরান এক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে সব ধরনের সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আর এ কারণে মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ফিলিস্তিনের ব্যাপারে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।
এসময় বক্তাবা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যদি মুসলিম বিশ্ব সব ধরনের বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধভাবে তার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে তাহলে ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলন আরো বেগবান হবে এবং অচিরেই ফিলিস্তিন স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানের এডিটর সিরাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী, ইসলামি ঐক্য আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা রুহুল আমীন, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর আহমাদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা ব্রিলিয়ান্ট স্কুলের প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান, ড. মাওলানা এ কে এম মাহবুবুর রহমান ও শায়েখ উসমান গনি প্রমুখ।
এসআর